ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

গণহত্যায় অভিযুক্তদের বিচার হবে নান্দনিক ভবনে

  • আপলোড সময় : ১১-১২-২০২৪ ১২:১২:১০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-১২-২০২৪ ১২:১২:১০ অপরাহ্ন
গণহত্যায় অভিযুক্তদের বিচার হবে নান্দনিক ভবনে
জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বিচারকাজ চালাতে ট্রাইব্যুনালের অবকাঠামোগত বেশ কিছু মেরামত করা হচ্ছে, যা শেষ হওয়ার পথে। ভবনের মেরামত কাজ শেষ হলে নতুন আঙ্গিকে আগের পুরোনো ভবনে শুরু হবে বিচারকাজ। এতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন বিচারক, প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থা ও আসামিরা পাচ্ছেন নান্দনিক ভবন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, গণহত্যা মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ অন্যদের আগামী ১৭ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা রয়েছে। মেরামত করা পুরোনো ভবনে ওই দিন তাদের হাজির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেদিন ভবনের নতুন এজলাসে বসে বিচারকাজ চলবে। ট্রাইব্যুনালের (পুরোনো) মূল ভবনের সংস্কারকাজ চলমান থাকায় আপাতত ভবন সংলগ্ন (অস্থায়ী) ট্রাইব্যুনালে চলছে বিচারিক কার্যক্রম। এদিকে, মেরামত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবন যে নান্দনিকরূপে দেখা যাবে তার ছবি প্রকাশ করে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এখন ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক সাদা ভবনটির নানামুখী সংস্কার কাজে ব্যস্ত শতাধিক মিস্ত্রি ও কর্মী। এছাড়া ট্রাইব্যুনাল সংলগ্ন বাগান নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদফতর থেকে এ সংস্কার কাজের সার্বিক তদারকি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েক দফায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান। এর আগে সংস্থারকাজ পরিদর্শন করেন গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীসহ সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের অনেকেই। সবশেষ মেরামত কাজ পরিদর্শন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, শিগগির সংস্কারকাজ শেষে বিচারের স্থান পরিবর্তন করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক সেই সাদা ভবনটির নানামুখী সংস্কার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মিস্ত্রি ও কর্মীরা। কেউ কেউ চুনকাম করছেন। কেউ করছেন ঘষামাজার কাজ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। চুন মিস্ত্রি আবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাজ প্রায় শেষ দিকে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্থারকাজ শেষ হবে বলে মনে করেন তিনি। সংস্কারকাজ শেষ হতে আরও সপ্তাহখানেক লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কাজ চলমান, এখন আর খুব বেশি সময় লাগবে না। শ্রমিকরা নিয়মিতভাবে কাজ করছেন। সংস্কারকাজের সিংহভাগ সম্পন্ন হয়েছে। টুকিটাকি কিছু কাজ বাকি আছে। ভেতরের চেয়ার, টেবিল ও আসবাবপত্র বসানোসহ বাকি কাজগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি। হয়তো সপ্তাহখানেকের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।’ তাজুল ইসলাম আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বিচার কার্যক্রম চলবে এমনভাবে ট্রাইব্যুনাল ভবনকে উপযোগী করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভবনটি সংস্কারের আগে অনেকটাই জরাজীর্ণ ছিল। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আইনজীবী প্যানেল ও তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ১৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার। ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী। গত ৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্রসিকিউশন টিমের অন্য প্রসিকিউটররা হলেন মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদ, এস এম মঈনুল করিম, মো. নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, আবদুল্লাহ আল নোমান, মো. সাইমুম রেজা তালুকদার, শাইখ মাহদী, তারেক আবদুল্লাহ এবং তানভীর হাসান জোহা (ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ)। অন্যদিকে, ১০ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন করা হয়। যেখানে তদন্ত সংস্থার কোঅর্ডিনেটর পদে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. মাজহারুল হককে এবং কোঅর্ডিনেটর পদে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্যাহ চৌধুরীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তদন্ত সংস্থার অন্য কর্মকর্তারা হলেন ঢাকার অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর, পিবিআই সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহা. মনিরুল ইসলাম, ঢাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জানে আলম, ঢাকার ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলের সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ আবদুর রউফ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ইউনুছ, রাজশাহীর চারঘাট মডেল থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ পারভেজ, পুলিশের রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) ঢাকার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মুহাম্মদ আলমগীর সরকার ও সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তরের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মশিউর রহমান। গত ৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন অফিসে শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এছাড়া গুমের অভিযোগ জমা পড়েছে বেশ কয়েকটি। গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার দলের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ২৭ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১০ মন্ত্রী, দুই উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতি ও সাবেক এক সচিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়। আগামী ১৭ ডিসেম্বর তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়। অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা যাদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয় তারা হলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান, রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাংগীর আলম। জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক পুলিশ প্রধানসহ আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাদের ট্রাইব্যুনালের মামলায় কারাগারে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ২০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়। আট কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ অতিরিক্ত সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল কাফি, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুরের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসিম উদ্দিন মোল্লা, ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুর ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান, গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল হক এবং ঢাকা উত্তর ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন। এর আগে গত জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তের জন্য দুই মাস সময় চান। ট্রাইব্যুনাল গত ১৯ নভেম্বর এক মাস সময় মঞ্জুর করে আগামী ১৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনও সেদিন জানাতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স